নমষ্কার শব্দটি এসেছে মূলত সংস্কৃত শব্দ 'নমঃ'
থেকে যার আভিধানিক অর্থ সম্মানজ্ঞাপন পূর্বক অবনত হওয়া।
দুইহাত জোড় করে,মূলত অহম (অহংকার) ত্যাগ পূর্বক বিনয়ভাব
প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া আমরা সনাতনীরা বিশ্বাস করি যে প্রতিটি জীবের মধ্যেই ঈশ্বর
পরমাত্মা রুপে বিরাজমান থাকেন, তাই কোন ব্যাক্তির সাথে যখন দেখা হয়,
তখন আমরা সেই ব্যাক্তির ভিতর পরমাত্মা রুপে বিরাজমান ঈশ্বরকেই আমরা
প্রনাম নিবেদন করে থাকি।অর্থাৎ নমস্কারের অর্থ হলঃ "With my head and
heart, I salute the God in you" সরল বাংলায়ঃআপনার অন্তঃস্থ
ঈশ্বরকে আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করছি ও সম্মান প্রদর্শন পূর্বক তার কাছে মাথা নত করে
প্রণতি জ্ঞাপন করছি। তার মানে আমাদের নমস্কার হলো কারো অভ্যন্তরস্থ ভগবানকে প্রণাম
করা।
"যো দেবো অগ্নৌ যো অপসু যো বিশ্বং ভূবনাবিশেষ য
ওষধীষু যো বনস্পতি তস্মৈ দেবায় নমো নমঃ।।" (শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ২-১৭)
যোগ যেমন পরমাত্মার দর্শনের সাধন বা উপায়, নমষ্কারাদিও
অনুরুপ বলিয়া তাহাঁকে নমষ্কার জানাই। "
তিনি কিরুপে..? তিনি দেব অর্থাত্ পরমাত্মার প্রকাশভাব।
তিনি কোথায়..? তিনি আছেন অগ্নিতে, জলে,
তৃণ-লতাদিতে, অশ্বাথাদি বৃক্ষে, তিনি এই বিশ্বভুবনে অন্তর্যামীরুপে অনুপ্রকিষ্ট হইয়া আছেন।।
তাই যখন কাউকে নমষ্কার জানানো হয় তখন মূলত সসর্বজীবে
অন্তর্যামীরুপে অবস্থিত পরমাত্মাকেই প্রণতি নিবেদন করা হয়, কোন
মনুষ্যদেহকে নয়।।
সুতরাং, নমষ্কার সকলকেই জানানো যায়। সংস্কৃতিভেদে করজোড়ে
কিছুটা বৈচিত্র্য দেখা যায় যেমন দেবতাদের উদ্দেশ্য সবোর্চ্চ সম্মান প্রদর্শন করতে
সাধকরা মাথার উপরে দু'হাত জোড় করে থাকে আবার কোন ব্যাক্তির
সঙ্গে সাক্ষাতে নমষ্কার জানাতে বুকের বরাবর হাত জোড় করা একই সাথে পরমাত্মাকে
প্রণতি ও আয়ুষ্মান (দীর্ঘায়ু কামনা) কে নির্দেশ করে।
আবার মন্দিরে বা পূজার ষোড়শ উপচারের মধ্যে নমস্কার অন্যতম উপচার।
অর্থাৎ শাস্ত্র অনুসারে, নমস্কার যেমন দেবদেবীর পুজোর একটি আচার, তেমনিই অতিথি বা অন্য ব্যক্তিকে সম্ভাষণেরও এক অঙ্গ। এর মাধ্যমে একজন
অপরকে নম্রতা, বিনয়, সম্মান ও যত্ন
প্রকাশ করতে পারেন। এমনকি এর মাধ্যমে বিদায়ও জানানো যায়। তৈত্তিরীয় উপনিষদ্
নামক প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থে নমস্কারকে "অথিতিদেব ভবো" নামে অভিহিত করা
হয়েছে (অর্থাৎ, অতিথি দেবতাতুল্য)।
আর উপমহাদেশের রীতি অনুযায়ী হাত দুটি পরষ্পর সংলগ্ন করে হাসিমুখে
নমস্কার জানানো হয়।
নমস্কারের উপযোগিতাঃ
হিন্দু ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী সকলে হাতজোড় করে প্রণাম বা নমস্কার
করে। এই নমষ্কার বা প্রনাম করার সময় আঙুলের মাথাগুলি একে অপরের সঙ্গে স্পর্শ হওয়ার
ফলে চাপের সৃষ্টি হয় যা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের প্রেসার পয়েন্ট-কে সঞ্চালিত করে।
জানলে অবাক হবেন
বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করার যে রীতি রয়েছে তাতেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
মানবদেহে সমস্ত শিরা-উপশিরা এসে মিলিত হয় বা শেষ হয় পায়ের আঙ্গুলের ডগায়। তাই যখন
কারওর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা হয় তখন সেই ব্যক্তির শরীরে পঞ্চইন্দ্রিয় সক্রিয়
হয়ে পজেটিভ এনার্জি উপন্ন করে। আর সেই প্রণম্য ব্যক্তি যখন মাথায় হাত দিয়ে
আশীর্বাদ করেন তখন সেই এনার্জি যে প্রণাম করছে তার শরীরে সঞ্চালিত হয়।
Reference/ Source :
Comments
Post a Comment