ধার্মিকরা মসজিদ,মন্দির,গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি বানিয়ে, সৃষ্টকর্ম'কে উপাসনা করে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা এইগুলো হচ্ছে, সহায়ক/মাধ্যম/রূপক। মূর্তি হচ্ছে, মাধ্যম মাত্র। এই উপসনা দুই রকমের হতে পারে। নিরাকার ও সাকার।
নিরাকার ঈশ্বরকে ধ্যানের মাধ্যমে উপাসনা করা হয়। কিন্তু সবাই সেটা পারে না। কারণ- ধ্যানে মনোসংযোগ করা খুবই কঠিন। কোরআনে নিরাকার আল্লাহর প্রার্থনা করার কথা উল্লেখ আছে ।
দেব-দেবীদের মূর্তির মাধ্যমে সাকাররুপে পূজা করা হয়। যেটা সবার পক্ষেই করা সম্ভব। কারণ- কোন দেব-দেবীর মূর্তি সামনে থাকলে মনে "শ্রদ্ধা" ও "ভক্তি" সহজেই আসে। আর গীতায় বলা হয়েছে--- ঈশ্বরের নিরাকার রূপের চেয়ে সাকার রূপের উপাসনা করাই ঈশ্বরের উপাসনার শ্রেষ্ঠ উপায়।
মুসলিম যেমন, মসজিদ (অথবা কাবা)'কে সেজদা করে না। সেজদা করেন আল্লাহ'কে।
খ্রিস্টান যেমন, যীশুর প্রতীক সামনে রেখে প্রার্থনা করে।
তেমন, সনাতন'রা মূর্তিকে সামনে রেখে, ঈশ্বরের প্রার্থনা করেন। আর, ঈশ্বরের একেক রূপের একেক মূর্তি।
হিন্দুরা আক্ষরিক অর্থে মূর্তিকে পূজা করে না। মূর্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের একেকটি শক্তির প্রকাশকে পূজা করে থাকেন। সেই সাথে দেব-দেবীদের যত কাহিনী আছে ধর্মগ্রন্থে সেইসব কাহিনী বিশিষ্ট অন্যান্য চরিত্রগুলোকেও সম্মান করে থাকেন।
হিন্দুরা বহু ঈশ্বরের পূজা করেন না। হিন্দুরা বিশ্বাস করে এইজগত এক ঈশ্বরের সৃৃষ্টি যিনি 'অ ও ম' এই তিনটি শব্দের মাধ্যমে নিজেই প্রকাশিত হয়েছেন বিভিন্ন রুপে।
ঈশ্বরের তিনটি কর্ম— সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশ। এই তিন কার্য সম্পন্ন করার জন্য তিন দেবতার সৃষ্টি করেছেন।
এঁরা হলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শঙ্কর। অন্যান্য সকল দেবদেবী এঁদের অধীন। তাই ওঁ- অ উ ম, এই তিন অক্ষর,
তিন দেবতার শক্তির পরিচয়।
অ- সৃষ্টির সূচক (ব্রহ্মা)
উ- স্থিতির সূচক (বিষ্ণু)
ম- বিনাশের সূচক (শঙ্কর)
ইংরেজিতে GOD শব্দের অর্থও তাই।
G- Generator (সৃষ্টি)
O- Operator (স্থিতি বা পালন)
D- Destructor (লয় বা বিনাশ)।
মানুষ ঈশ্বরের রূপগুলোর মধ্যে একটি রূপ। আমি, আপনি সবাই ব্রহ্মার রূপ।
যদি হিন্দুরা সত্যিই মূর্তিকে ঈশ্বর ভাবতো তবে পূজার পড়ে মূর্তি পানিতে ভাসিয়ে দিতো না। ঈশ্বরের একটি শক্তির প্রকাশকে কিছু বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে একটা রূপ দিয়ে সেই রূপকে পূজা করে হিন্দুরা।
ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment